April 7, 2026, 6:18 am

সংবাদ শিরোনাম
মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত

হাসপাতালে একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী

হাসপাতালে একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরীর চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ একজন প্রকাশক। বাসায় পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে এই লেখিকা গত রোববার থেকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগতে থাকা রমা চৌধুরী এর আগে কিছুদিন নগরীর খুলশী ডায়াবেটিস হাসপাতালেও চিকিৎসা নেন। তার কয়েকটি বইয়ের প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন বলেন, রোববার বাসায় ফেরার পর তিনি পড়ে যান। ডান পাশের কোমরের হাড় ভেঙে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অপারেশনের প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে নেই। জীবনে কখনো কারো কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা গ্রহণ না করলেও এবার চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন এই বীরাঙ্গনা। আলাউদ্দিন খোকন বলেন, এই লেখিকার শারীরিক অবস্থা খুবই জটিল। তিনি নিজেই বলেছেন, চিকিৎসার জন্য তার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। ৭৮ বছর বয়সী রমা চৌধুরী ডায়াবেটিস, ব্রংকাইটিস, পিত্তথলির পাথরসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। ২০১৩ সালের ২৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছিলেন তিনি। সারাজীবন নানা প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা এই বীরমাতা সেদিনও কোনো সহায়তা না চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করে চট্টগ্রামে ফেরেন। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজলোর বাসিন্দা রমা চৌধুরী ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করনে। পেশা হিসেবে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৩ মে তিন শিশু সন্তান নিয়ে বোয়ালখালীর পোপাদিয়ার গ্রামের বাড়িতেই ছিলেন রমা চৌধুরী, এ সময় তার স্বামী ছিলেন ভারতে। ওই ঘটনার পর থেকেই খালি পায়ে হাঁটেন রমা চৌধুরী। এলাকার রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানী বাহিনী রমা চৌধুরীর বাড়িতে হানা দিয়ে তার বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়। রমা চৌধুরীর দুই সন্তান সাগর (৫) ও টগর (৩) এ ঘটনার দুই বছরের মধ্যে মারা যায়। তার আরেক সন্তান মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। রমা চৌধুরী ’৭১ এর জননী’, ‘এক হাজার এক দিন যাপনের পদ্য’, ‘ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ’সহ ১৯টি বই লিখেছেন। চট্টগ্রাম নগরীতে খালি পায়ে বিচরণ এই বীরাঙ্গনার। নিজের লেখা বই নিজেই বিক্রি করেন তিনি। একাকী রমা চৌধুরী নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে লুসাই ভবনের একটি কক্ষে থাকনে। তার সঙ্গী কয়েকটি পোষা বেড়াল। নিজের লেখা বই বিক্রি করে একটি অনাথ আশ্রম গড়ার স্বপ্ন রমা চৌধুরীর।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর